দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান: ২০২৭-এ সুটিয়া গ্রামে বিশাল ‘ঈদ পুনর্মিলনী’র ডাক

 


নিজস্ব প্রতিবেদক, জীবননগর |

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুটিয়া গ্রাম। একসময় যে গ্রাম পরিচিত ছিল বৈশাখী মেলা, জমকালো মঞ্চ নাটক আর প্রাণবন্ত সামাজিক অনুষ্ঠানের জনপদ হিসেবে, সময়ের বিবর্তনে সেই জৌলুস আজ ম্লান। ২০০৬ সালে ‘সুটিয়া শিক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি’র উদ্যোগে সর্বশেষ বড় পরিসরে একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হওয়ার পর দীর্ঘ ২০ বছর পার হয়ে গেলেও গ্রামে আর কোনো বড় সামাজিক মিলনমেলা বসেনি।

​হারানো ঐতিহ্যের খোঁজে গ্রামবাসী

​দীর্ঘ এই দুই দশকে গ্রামের মানুষ কর্মব্যস্ততার ভিড়ে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। একসময়ের নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস এখন রূপকথার মতো মনে হয়। প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক বিশাল ‘জেনারেশন গ্যাপ’। গ্রামের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ মনে করছেন, এই দূরত্ব ঘোচাতে একটি বড় পরিসরের মিলনমেলা এখন সময়ের দাবি।

​২০২৭-এর ঈদুল ফিতরে মেগা ইভেন্টের পরিকল্পনা

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের পর সুটিয়া গ্রামের সকল এস.এস.সি ব্যাচকে নিয়ে একটি বিশাল ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে সফল করতে খুব শীঘ্রই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের কথা ভাবছেন গ্রামের সচেতন মহল।

​শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থায়ী মিলনমেলার অভাব

​গ্রামের সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলে খেলাধুলা ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থায়ী জায়গা পাওয়া যেত। উৎসবের ছুটিতে গ্রামের মানুষ হাইস্কুল মাঠে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেত, যা পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হতো। দীর্ঘকাল ধরে এই মৌলিক চাহিদার প্রতি যথাযথ নজর না দেওয়ায় গ্রামে সামাজিক স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে অনেকের ধারণা।

​ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

​দীর্ঘ ২০ বছর পর পুনরায় গ্রামের সকলকে এক সুতোয় গাঁথার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসে ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সুটিয়ার কৃতি সন্তানেরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে গ্রামের সকল স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে:

​"আসুন, সকল অহমিকা ও মতভেদ ত্যাগ করে আমরা আমাদের শেকড়ের টানে ঐক্যবদ্ধ হই। সুটিয়া গ্রামের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২০২৭-এর পুনর্মিলনী হোক আমাদের নতুন শুরুর ভিত্তি।"


​গ্রামবাসী আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুটিয়া গ্রাম আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে এবং মেলা ও নাটকের সেই সোনালী দিনগুলো ফিরে আসবে।

Post a Comment

0 Comments