সীমান্তবর্তী মহেশপুরে আধুনিক ফুলচাষে নতুন দিগন্ত: স্বাবলম্বী তরুণ উদ্যোক্তা মাসুম বিল্লাহ

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

সীমান্তবর্তী অবহেলিত জনপদেও যে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খোলা সম্ভব, তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের মুন্ডুমালা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ মাসুম বিল্লাহ। গতানুগতিক কৃষির গণ্ডি পেরিয়ে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফুলচাষ করে তিনি আজ এক সফল ফুলচাষী ও স্থানীয়দের জন্য রোল মডেল।

​বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কারিগরি সহায়তায় ‘স্মার্ট প্রকল্প’ এর আওতায় ফুল উপ-প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্বনামধন্য বেসরকারি সংস্থা রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন / Rural Reconstruction Foundation (আরআরএফ)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ, অনুদান ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন মাসুম বিল্লাহ।

​স্মার্ট প্রকল্পের সার্বিক সহায়তায় তিনি গড়ে তুলেছেন একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ‘ইকোলজিক্যাল ফার্মিং শেড’। বর্তমানে তাঁর শেডে শোভা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফুল, যার মধ্যে রয়েছে জারবেরা, লিলিয়াম, জিপসি ও গোলাপ। বিষমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে মানসম্মত ফুল উৎপাদন করায় বাজারে মাসুম বিল্লাহর উৎপাদিত ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতি সপ্তাহে ফুল বিক্রি করে কয়েক লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন। এর পাশাপাশি, তাঁর এই উদ্যোগে এলাকার বহু বেকার যুবকের স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।


নিজের সাফল্য ও অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমাদের সীমান্ত এলাকায় আগে আধুনিক উপায়ে ফুলচাষের কোনো সুযোগ ছিল না। আরআরএফ আধুনিক প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসায় আমার মতো সাধারণ উদ্যোক্তারা বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় আমি আজ আত্মনির্ভরশীল।”

​প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও সুফল তুলে ধরে আরআরএফ-এর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল অফিসার বাপ্পী কুমার অধিকারী বলেন, “সীমান্তবর্তী এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরআরএফ-ই সর্বপ্রথম এ ধরনের বিশেষায়িত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আমরা পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন উন্নত ফুলের জাত সরবরাহ এবং কৃষকদের হাতেনাতে আধুনিক চাষাবাদ শেখাচ্ছি। ফুলচাষীরা এখন এর প্রত্যক্ষ সুফল পেতে শুরু করেছেন।”

​প্রকল্পের ফোকাল পারসন ও আরআরএফ-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মন্ডল বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে আরআরএফ বহুমুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। যেভাবে তরুণ উদ্যোক্তারা আধুনিক ফুলচাষে এগিয়ে আসছেন, তাতে আমরা আশাবাদী যে নিকট ভবিষ্যতে এই সীমান্তবর্তী এলাকাটি দেশের নতুন ‘ফুলের রাজধানী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”

​পরিবেশবান্ধব কৃষির এই অগ্রযাত্রা ও মাসুম বিল্লাহর সফলতা এখন এলাকার অন্যান্য তরুণদেরও আধুনিক কৃষি ও উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments