চুয়াডাঙ্গাতে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকেরা দাম নিয়ে হতাশ

 

জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আলুর জমি



গতবছর আলুর দাম কেজি প্রতি ৮০ টাকা হওয়াতে কৃষকেরা প্রচুর পরিমাণে আলু চাষ করতে শুরু করে। এই প্রবণতা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কৃষকেরা লাভের আশায় আলু চাষের প্রতি ঝুকে পড়ে। কিন্তু দেশে আলুর উৎপাদন প্রচুর হওয়াতে আলুর দাম অনেক কমে আসে। এটার কারনে কৃষকদের ভিতরে এক ধরনের হতাশা দেখা দেয়। এবছর চুয়াডাঙ্গা জেলাতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। গতবার আলুর দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের কৃষকদের মধ্যে আলু চাষের হিড়িক লেগে যায়। অধিকাংশ কৃষকেরা ঋণ নিয়ে আলু চাষ শুরু করে।

আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। আলুর উৎপাদন এবার কাটা প্রতি ৫ মণ এবং বিঘা প্রতি ৯০ / ১০০ মণ করে হচ্ছে। কৃষকেরা বিক্রয় করছে কেজি প্রতি ১৪/১৫ টাকা করে। তবে আলু চাষে লাভ না হলেও লস নেই এলাকার কৃষকেরা এটা ব্যক্ত করেছে। অধিকন্তু সেচ, তেল, সার, কীটনাশক এবং মজুরি খরচ বেশি হওয়াতে এই দামে কৃষকেরা আলু চাষ করে লাভবান হতে পারবেনা। আলু চাষ করে লস নেই আসল থাকবেই এটা কৃষকেরা বলেছেন।



পর্যাপ্ত দাম না পাওয়াতে আলু চাষীরা হতাশ। কৃষকেরা বলছে এমতাবস্থায় যদি ভারত অথবা অন্য কোনো দেশ থেকে যদি আলু আসে তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অধিকাংশ কৃষকেরা আর্থিক সংকটের কারনে আলু তুলে বিক্রি করে দেচ্ছে। কিছু কিছু কৃষকেরা সামনে ভালো দাম পাবার আশায় আলু এখনই না তুলে দেরিতে সংগ্রহ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করবে। আলুর দাম শুরুতেে কম থাকলেও পরবর্তীকালে এর দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। দেশের জনগণের খাদ্য তালিকায় আলুর চাহিদা ব্যাপক। চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়াতে এর দাম বৃদ্ধি পায়। তবে উৎপাদন মৌসুমে এর সরবরাহ বেশি হওয়াতে দাম কমে যায়। যাহোক আলু চাষ লাভজনক এজন্য কৃষকেরা এটা চাষ করতে আগ্রহী হয়।

Post a Comment

0 Comments