কৃষ্ণপুরের দিগন্তজুড়ে সোনালী আভা

 


সূর্যমুখী চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন জীবননগরের কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জীবননগর | চুয়াডাঙ্গা

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রাম এখন যেন এক টুকরো হলুদ রাজ্য। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে ফুটে আছে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল। বিকেলের রোদে এই ফুলের বাগান যে কাউকে মুগ্ধ করে তুলছে। শুধু সৌন্দর্য নয়, তেলের ঘাটতি মেটাতে এবং বাড়তি আয়ের আশায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ করে এ অঞ্চলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

হলুদ গালিচায় সেজেছে কৃষ্ণপুর

​কৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে সারি সারি সূর্যমুখী ফুলের দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতির বুকে কেউ যেন সোনালী গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। সূর্য যেদিকে মুখ ঘুরাচ্ছে, এই ফুলগুলোও সেদিকেই তাদের মাথা দোলাচ্ছে। এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এই গ্রামে। অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি ও ভিডিও।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে সূর্যমুখী চাষ?

​স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে সূর্যমুখী চাষ করা যায়। ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে লাভ বেশি। কৃষ্ণপুর গ্রামের একজন সফল কৃষক বলেন:

​"প্রথমে শখের বসে শুরু করলেও এখন দেখছি এটি বেশ লাভজনক। সরিষার বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখীর তেলের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া এই ফুলের বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।"


কৃষি অফিসের সহযোগিতা

​উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষ্ণপুরের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে পোকা-মাকড় ও রোগের প্রাদুর্ভাবও অনেক কম।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

​সূর্যমুখীর বীজ থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনের পাশাপাশি এর খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। বাজারে সূর্যমুখী বীজের ভালো দাম থাকায় কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষকরা এই মৌসুমে ভালো লাভের আশা করছেন।

​কৃষ্ণপুরের এই সূর্যমুখী বিপ্লব কেবল কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে না, বরং ভোজ্য তেলের বাজারে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

Post a Comment

0 Comments