হঠাৎ বেড়েছে হামের প্রকোপ: যা বলছেন চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্য বিভাগ

 

প্রতীকি ছবি : হাম রোগে আক্রান্ত শিশু


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা :  সারাদেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় হুট করেই শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, দেশের প্রায় সব জেলাতেই শিশুরা এই অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সের মধ্যে টিকা নেওয়ার পরেও অনেক শিশু নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে।

কেন বাড়ছে হামের প্রকোপ?

​চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা আক্রান্ত শিশুর জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ বিরতির পর এই রোগের আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত আট বছর এই অতি সংক্রামক রোগটির টিকা সঠিকভাবে না দেওয়ার কারণেই বর্তমানে দেশে হামের এই প্রকোপ পুনরায় দেখা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ

​হামের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন করে টিকার জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের বর্তমান উপসর্গ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং এতে রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেছেন।

জুলাই-আগস্টে আসছে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি

​পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে একটি বিশেষ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান:

"ইতোমধ্যেই ভ্যাকসিন চলে আসছে। অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য বৈশ্বিক জোট 'গ্যাভি'কে (Gavi) অবহিত করা হয়েছে। তারা মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে। প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম হাতে পেলেই আমরা দেশব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করবো।"


অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ

​স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া। যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি বা যাদের সুরক্ষার ঘাটতি রয়েছে, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুর শরীরে র‍্যাশ বা জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments