প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর মালয়েশিয়া: আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারসাম্যের বার্তা



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন, যা এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২১ ও ২২ জুন তিনি কুয়ালালামপুর সফর করবেন এবং এই সফরে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনার মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে দেশটিতে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে শ্রমবাজারের বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফরের ঠিক পরপরই ২৩ থেকে ২৬ জুন তার চীন সফরের কথা রয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কুয়ালালামপুরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকে শ্রমবাজার ছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, কৃষি এবং আসিয়ানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ মে’র পর থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই জটিলতা কাটাতে গত এপ্রিলে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করেন। এর আগে গত বছরের আগস্টে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশটি সফর করেছিলেন এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন।

Post a Comment

0 Comments