| কাল্পনিক ছবি- সুটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার একটি বৃহত্তর ও জনবহুল গ্রাম হচ্ছে সুটিয়া। আট হাজারের অধিক জনসংখ্যার এই সুটিয়া গ্রাম এবং এর পার্শ্ববর্তী ৬ টি গ্রামের জন্য নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় আর একটি খেলার মাঠ।
গ্রামের আশেপাশে মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বাল্যবিবাহ বা ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। বিশেষ করে মেয়েরা, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়ছে। দূরত্বের কারণে ছাত্রীরা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং উপযুক্ত বিদ্যালয়ের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের অসুবিধা ও নিরাপত্তার অভাবে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। গ্রামে হাইস্কুল না থাকা একটি গুরুতর সমস্যা। অধিকন্তু, অনেক এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সুটিয়া একটি বৃহত্তর গ্রাম এবং ভৌগোলিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারনে এখানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করলে ভালো চলবে। সুটিয়া থেকে ৩ কিলোমিটার দুরত্বে হাসাদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং হাসাদাহ দাখিল মাদ্রাসা অবস্থিত। কিন্তু এই দুটি প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫০ শতাংশ সুটিয়া ও সোন্দাহ গ্রামের।
জীবননগর উপজেলার আলীপুর গ্রামে যদি দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকে তাহলে সুটিয়া গ্রাম কেন পিছিয়ে থাকবে ? গ্রামের মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাটা বোধহয় কোনকালে পূরণ হবেনা ! বর্তমান সময়ের যুবরা এটার জন্য গ্রামের পুরাতন এবং বর্তমান সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের দায়ী করেছেন। অনেকেই ব্যক্ত করেছেন, এদের উদাসীনতার কারনে আমাদের গ্রামে মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় স্থাপিত হয়নি। এদের দূরদর্শিতার অভাবে এসমস্ত সূযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, একটি কওমী এবং একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা আছে। এগুলো সংকীর্ণ জায়গায় অবস্থিত আর ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সূযোগ নেই।
গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তিবর্গ ; আমিনুল ইসলাম শান্তি (ডেপুটি রেজিস্ট্রার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), শামসুল আলম (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ঢাকা), সাঈদ ইকবাল (শিক্ষক), বাপ্পী অধিকারী (পরিবেশবিদ, আরআরএফ), নাজমুল কবির (শিক্ষক), আশানুর কবির জীম (শিক্ষক), সহিদুল ইসলাম (শিক্ষক) এদের সাথে কথা বলে জানা যায় গ্রামে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন অত্যাবশ্যক।
কোথায় স্থাপন করা হবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ? এটার জন্য মতামত জানান গ্রামের জাকির হাসান জনি, মোর্শেদ আলামিন, তুহিন আজমীর, নাছিম আনসারী, সাইফুল ইসলাম মুসা, জব্বার, রানা হামিদ, কাইয়ুম, রিয়াজ উদ্দিন, আলমগীর, রিয়াদ আহমেদ, রমিজ রাজা, তাজ আহমেদ, রাসেল রিজভী, আবু তালহা, রিফাত হোসেন, সাহেব। এরা সবাই সুটিয়া-শ্রীরামপুর সড়কের ধান ক্ষেতের মাঠের জায়গায় স্থাপনের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন আমাদের গ্রামে হাইস্কুল স্থাপিত হলে সবচেয়ে ভালো হতো। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফোরকান বলেন আমাদের গ্রামে কোনো খেলার মাঠ নেই। এজন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হলে একসাথে দুটি সুবিধা ভোগ করা যেতো। সোন্দাহ গ্রামের সালাম বলেন, গ্রামে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হলে এলাকার উচ্চ শিক্ষিত যারা বেকার অবস্থায় আছে তারা আপাতত এখানে চাকরি করে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি কিছুটা অর্থ উপার্জন করতে পারতো।
সম্প্রতি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমোদন সহজেই মেলছে না। সূযোগ একসময় ছিলো আর সেটা সুটিয়াবাসী গ্রহণ করতে পারেনি। এটা ব্যক্তি উদ্যোগে একা করা সম্ভব না। জমি লাগবে এবং অবকাঠামোগত খরচ প্রয়োজন হবে। তাই এটা বাস্তবায়ন করতে হলে সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। কোনোভাবেই একবার প্রতিষ্ঠান দাড় করিয়ে দিতে পারলে শিক্ষার্থীর অভাব হবেনা। সুটিয়া - শ্রীরামপুর সড়কের ধানক্ষেতের জায়গাটা নিরিবিলি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। এখানে সুটিয়া গ্রাম ছাড়াও সোন্দাহ, শ্রীরামপুর, করিমপুর, তারিণীবাস, হাসাদাহ ঘুষি পাড়া, পনেরোসতি পাড়া হতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে আসবে। অল্প কয়েকবছরে এটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে যদি মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করতে পারা যায়।
পরিশেষে, এলাকায় শিক্ষার হার বাড়াতে এবং ঝরে পড়া রোধ করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বিত্তবান ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
0 Comments