সুনামগঞ্জে অকাল বর্ষণে ডুবল কৃষকের স্বপ্ন: হাওরাঞ্চলে হাহাকার, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি

 

সংগৃহীত ছবি  - ধর্মপাশা উপজেলার ধানক্ষেত 




নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ | ১৮ মার্চ, ২০২৬

​সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বোরো ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সোনালি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

​পানির নিচে বোরো ক্ষেত, দিশেহারা কৃষক

​সরেজমিনে ওই এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, হাওরের পর হাওর এখন অথৈ পানির নিচে। সবেমাত্র বেড়ে ওঠা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বলটুকু বিনিয়োগ করেছিলেন এই ফসলে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হতে চলেছে।

​তাহিরপুর উপজেলার এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের সারা বছরের অন্ন জোগান দেয় এই জমি। সব স্বপ্ন এই ফসলকে ঘিরেই ছিল। হঠাৎ বৃষ্টিতে সব চোখের সামনে ডুবে গেল। দ্রুত পানি না নামলে আমরা না খেয়ে মরব।”

​পানি নিষ্কাশনে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

​স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নালাগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না, ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে কৃত্রিম উপায়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ফসলের পচন রোধ করা সম্ভব হবে না।

​প্রশাসনের ভূমিকা ও কৃষকদের দাবি

​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তার পাশাপাশি কৃষি ঋণের কিস্তি স্থগিত এবং বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সংক্ষেপে কৃষকদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • ​জরুরি ভিত্তিতে সেচ পাম্প বা বিকল্প উপায়ে পানি নিষ্কাশন।
  • ​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।
  • ​কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সার ও বীজ প্রদান।

​হাওরাঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল বোরো ধান রক্ষায় প্রশাসন এখনই কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সুনামগঞ্জের আপামর কৃষক সমাজ।

Post a Comment

0 Comments