![]() |
| ছবি : গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়ন |
নিজস্ব প্রতিবেদক | উত্তরাঞ্চল
সব প্রস্তুতি ছিল ঘরে ফসল তোলার। মাঠভর্তি আলু, মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার প্রকৃতি যেন সব ওলটপালট করে দিল। হঠাৎ নামা কালবৈশাখী সদৃশ বৃষ্টিতে জয়পুরহাট ও বগুড়ার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন পানির নিচে। বিশেষ করে আলু উত্তোলনের শেষ মুহূর্তে এই দুর্যোগে প্রান্তিক চাষিদের চোখে এখন কেবলই অন্ধকার।
মাঠেই পচছে 'সোনালি আলু'
জয়পুরহাটের কালাই এবং বগুড়ার শেরপুর, শাজাহানপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। হাজার হাজার হেক্টর জমির আলু এখন কর্দমাক্ত পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছে। অনেক কৃষক আলু তুলে মাঠেই স্তূপ করে রেখেছিলেন, যা এখন বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কালাই উপজেলার এক কৃষক বলেন, "সব শেষ হয়ে গেল বাবা! এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আমার সারা বছরের কষ্ট আর স্বপ্ন সব কাদা-পানিতে মিশে গেল। এখন না পাবো দাম, না পাবো খাবার।"
ক্ষতির মুখে হাজারো কৃষক
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময়ে বৃষ্টি আলুর জন্য বিষের মতো। পানিতে বেশিক্ষণ ডুবে থাকলে আলুতে দ্রুত পচন ধরে। এতে করে বাজারে আলুর গুণমান কমে যাবে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।
ক্ষতির প্রধান দিকগুলো:
সরাসরি পচন: পানির নিচে থাকায় আলুতে ছত্রাকের আক্রমণ ও পচন শুরু হয়েছে।
উত্তোলন খরচ বৃদ্ধি: ভেজা জমি থেকে আলু তুলতে এখন দ্বিগুণ শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
সংরক্ষণ ঝুঁকি: ভেজা আলু কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগারে রাখার উপযোগী থাকে না, যা দীর্ঘমেয়াদী লোকসানের কারণ।
বিপাকে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি
এই অঞ্চলের অর্থনীতির বড় একটি অংশ নির্ভর করে আলু চাষের ওপর। হুট করে আসা এই বৃষ্টিতে কেবল কৃষক নয়, স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরাও সংকটে পড়েছেন। অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধের চিন্তায় তারা দিশেহারা।
কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি ধীরগতিতে হচ্ছে।
"সব স্বপ্ন এখন পানির নিচে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ সহায়তা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।" > — ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, নন্দীগ্রাম।

0 Comments