![]() |
| রাজপথে ঈদের দিন নন-এমপিও শিক্ষকরা |
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২১ মার্চ, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক আর পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুস্বাদু সব খাবার। কিন্তু এই চিরাচরিত দৃশ্যপটের একদম উল্টো ছবি দেখা গেল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। যখন সারা দেশ উৎসবে মেতেছে, তখন একদল মানুষ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তারা জাতি গড়ার কারিগর—নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক।
“নো এমপিও, নো ঈদ”
ঈদের দিন সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন বেশ কিছু শিক্ষকরা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“No MPO, No Eid”, “নন-এমপিওদের কিসের ঈদ?” কিংবা “একই দেশ, একই কারিকুলাম, কেন এই বৈষম্য?”। পরিবারের সাথে সেমাই-পোলাও খাওয়ার বদলে তারা প্রতীকীভাবে ডাল-ভাত ও বয়লার মুরগির ডিম খেয়ে রাজপথেই কাটিয়েছেন ঈদের দিনটি।
বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, তারা বছরের পর বছর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করে আসছেন। অথচ মাসের পর মাস কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তাদের দাবিগুলো হলো:
- স্থগিত থাকা এমপিও কার্যক্রম অবিলম্বে পুনরায় চালু করা।
- নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।
- মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঝুলে থাকা আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা।
কান্নাভেজা কণ্ঠে শিক্ষকদের আর্তনাদ
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন,
"বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা আর ছোট ছোট সন্তানরা পথ চেয়ে বসে আছে। কিন্তু পকেটে টাকা নেই বলে তাদের জন্য সামান্য সেমাই-চিনিও নিয়ে যেতে পারিনি। আমাদের কাছে ঈদের চাঁদ আনন্দ নয়, বঞ্চনার প্রতীক হয়ে এসেছে। পেটে খিদে নিয়ে কিসের ঈদ পালন করব?"
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, অনড় আন্দোলন
নন-এমপিও শিক্ষকদের এই আন্দোলন নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার তারা আমরণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস পেলেও তার বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার তারা আর ঘরে ফিরতে নারাজ।
আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথই তাদের ঠিকানা। শিক্ষা খাতের এই চরম বৈষম্য দূর করতে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

0 Comments