দাম বাড়লেও আখ চাষে বিমুখ জীবননগরের তারিণীবাস গ্রামের কৃষকরা



দেশে আখের দাম বাড়লেও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার তারিণীবাস গ্রামের কৃষকরা আখ চাষে বিমুখ হওয়ার প্রধান কারণ হলো দীর্ঘদিন চিনিকল বন্ধ থাকা ও অনিশ্চিত বাজার। ফলে আখ বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং উচ্চ উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি থেকে যায়। যদিও সরকার দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং নতুন জাতের আখ চাষে আগ্রহ দেখা গেছে, তবুও আগের লোকসান, পর্যাপ্ত সার-বীজ না পাওয়া এবং গুড় শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছে।
একসময় তারিণীবাস গ্রামে প্রচুরপরিমাণ আখের চাষ হতো। বিগত কয়েক বছরে আখের দাম কম থাকায় এখানকার চাষীরা লোকসানের কারনে আখ চাষ থেকে সরে এসেছে। এই গ্রামের আখ চাষী তোতা মিয়া বলেন আমাদের গ্রামে প্রচুর আখের চাষ হতো কিন্তু লোকসান এড়াতে চাষীরা অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বর্তমানে আখের মণ প্রতি ২২০ - ২৫০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে যেটা অবশ্যই লাভজনক। তবে অতীতে ক্রমাগত লোকসানের কারনে দাম বাড়লেও সেভাবে কেউ আর আখ চাষের প্রতি আগ্রহী দেখাচ্ছে না। তিনি একথাও বলেন দাম যদি এরকম থাকে আর কেরু কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা পাওয়া গেলে আখ চাষীরা আগহী হতে পারে।


আখের চাষ কমে যাওয়ার কারণসমূহ :
চিনিকল বন্ধ  ও অনিশ্চিত বাজার ব্যবস্থা: দর্শনার কেরু চিনিকল বন্ধ থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে গুড় তৈরি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যা সবসময় লাভজনক নয় তাছাড়া বাজারে চাহিদা ও দামের ওঠানামা হয়ে থাকে।
  • উচ্চ উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি: আখ চাষে শ্রম ও সার-বীজের খরচ বেশি, কিন্তু ফলন বিপর্যয় (যেমন খরা) বা বাজার দর কম থাকলে কৃষকদের লোকসান হয়, যা তাদের নিরুৎসাহিত করে।
  • সার-বীজ সংকট: সময়মতো চিনিকল থেকে সার ও বীজ সরবরাহ না পাওয়া এবং উন্নত জাতের আখের অভাবও চাষ কমে যাওয়ার একটি কারণ।
  • অন্য ফসলের প্রতি আকর্ষণ : একই জমিতে সবজি, ফল ও অন্যান্য লাভজনক ফসল চাষে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যা আখ চাষ থেকে কৃষকদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। 
  • আখ চাষের বর্তমান পরিস্থিতি :
কৃষি বিভাগ ও চিনিকল কর্তৃপক্ষ দাম বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের আশা দেখালেও, চাষিরা অতীতের লোকসানের কারণে দ্বিধায় আছে।
  • কিছু কৃষক ফিলিপাইনের কালো জাতের মতো নতুন জাতের আখ চাষে ঝুঁকছে, কারণ এতে ভালো ফলন ও মিষ্টি বেশি পাওয়া যায়।
  • অনেক চাষি এখন কেবল গুড় তৈরির জন্য আখ চাষ করছেন, যা আখের বাণিজ্যিক উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। 
  • সংক্ষেপে, ভালো দামের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান বাজারের অনিশ্চয়তা চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রধান কারণ। 

Post a Comment

1 Comments