নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬
সারাদেশের সকল নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির একদফা দাবিতে আজ বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে 'সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ'। মানববন্ধন শেষে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল নবনিযুক্ত শিক্ষা সচিবের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বক্তব্য ও মূল দাবি
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক প্রিন্সিপাল মো: সেলিম মিয়া। তিনি তার বক্তব্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে খরচ করা অন্যায়। দেশের শিক্ষার উন্নয়নে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এখন সময়ের দাবি। আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।"
সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো: নাজমুস শাহাদাত আজাদী বলেন, "আমরা ২০-২৫ বছর যাবৎ চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের জোরালো দাবি, দ্রুত এই বৈষম্য দূর করে মানবেতর জীবনযাপন করা শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটান।"
রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ
সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো: মনিমুল হক বলেন, "বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি এবং আশা করছি দ্রুততম সময়ে সকল নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে।"
যুগ্ম সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো: ইমরান বিন সোলায়মান অতীতের নির্যাতনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমরা রাজপথে দিনের পর দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখন সময় এসেছে ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার।"
স্মারকলিপি প্রদান
মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নবনিযুক্ত সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা জানান, বিগত সরকারের আমলে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেই তালিকা অনুযায়ী দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম এবং অধ্যক্ষ বাকী বিল্লাহ জানান, বেতন-ভাতা ছাড়া ২০-২৫ বছর চাকরি করা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তারা আশা করেন, সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
উক্ত মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আফতাবুল আলম, প্রভাষক কবির উদ্দিন, হাবিবুর রহমান বাবুল, গোলাম মোস্তফা, মোবারক হোসেন ও জাহিদ হোসেনসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতশত শিক্ষক-কর্মচারী।


0 Comments